বায়েজিদ এলাকায় জনসংযোগ চলাকালে মুখোশধারী হামলাকারীদের গুলিতে নিহত ‘সন্ত্রাসী’ সরোয়ার; আধিপত্য বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ।
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলী খন্দকারপাড়া এলাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনী জনসংযোগের সময় সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার সন্ধ্যায় এ ঘটনায় বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের মধ্যে সরোয়ার হোসেন (৩৫) নামে এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
![]() |
| বায়েজিদ এলাকায় বিএনপির গণসংযোগে গুলিবর্ষণের ঘটনায় সরোয়ার নিহত ও এরশাদ উল্লাহসহ আহত কয়েকজন। ছবি: সংগৃহীত |
নিহত সরোয়ারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও হত্যাসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ। তিনি ‘সন্ত্রাসী সরোয়ার’ নামে এলাকায় পরিচিত।
কীভাবে ঘটল হামলা
গণসংযোগ চলার সময় মুখোশ পরা এক যুবক হঠাৎ কর্মীদের ভিড়ের মধ্যে ঢুকে সরোয়ারের ঘাড়ে খুব কাছ থেকে পিস্তল ঠেকিয়ে টানা সাত-আট রাউন্ড গুলি চালায়। এতে আশপাশের নেতা–কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন।
হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।
আহতদের পরিচয়
এরশাদ উল্লাহ — বিএনপি প্রার্থী ও নগর বিএনপির আহ্বায়কইরফানুল হক শান্ত — স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা (অবস্থা আশঙ্কাজনক)
আমিনুল হক — বিএনপি কর্মী
মুর্তজা হক — বিএনপি কর্মী
তাঁদের চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পূর্ববিরোধের জেরেই হামলা
পুলিশ জানায়, সরোয়ার ও বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদ গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছে। গত বছর ও চলতি বছর সরোয়ারকে লক্ষ্য করে আরও দুটি হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত সরোয়ারের ভাই আজিজ হোসেন অভিযোগ করেন,
“ছোট সাজ্জাদের লোকজন বহুদিন ধরে আমার ভাইকে হত্যার হুমকি দিচ্ছিল।”
বিএনপির প্রতিক্রিয়া
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন,
“এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। জনসংযোগে শত শত মানুষ ছিলেন। পূর্ববিরোধের জেরে সরোয়ারকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে।”
পুলিশের বক্তব্য
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন,
“অপরাধীরা সরোয়ারকেই টার্গেট করেছিল। কিছু আলামত পাওয়া গেছে। দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করা হবে।”
তিনি আরও বলেন,
“যেকোনো রাজনৈতিক দল জনসভা বা গণসংযোগের আগে ২৪ ঘণ্টা আগে পুলিশকে জানালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।”
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক
রাতে চালিতাতলী এলাকায় দোকানপাট দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়রা আতঙ্কে কোনো মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন।
পিবিআই ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করেছে।


0 মন্তব্যসমূহ